ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে চালু হল ‘ডার্ক মোড’ , অবশেষে মুম্বই পৌঁছল তেলের ট্যাঙ্কার
বেস্ট কলকাতা নিউজ : হরমুজ প্রণালী ব্যবহারে মিলেছে ইরানের ছাড়পত্র? ভারতগামী জাহাজে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান? বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একাধিক মিডিয়া রিপোর্টে তৈরি হয়েছিল আশার আলো। যদিও পরে বিদেশ মন্ত্রক থেকে জানানো হল, এখনই এবিষয়ে হলফ করে কিছু বলা যাবে না। আবার ইরানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ভারতীয় জাহাজকে রক্ষাকবচ দেওয়া নিয়ে দিল্লির সঙ্গে সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছে তেহরান। আর এই দোলাচলের মধ্যেই ইরানের চোখে ধুলো দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথম কোনো ট্যাঙ্কার ভারতে এসে পৌঁছাল। হরমুজে দুঃসাহসিক যাত্রায় লিবিয়ার পতাকাবাহী সেই ট্যাঙ্কার তেল নিয়ে মুম্বইয়ে এসেছে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ওই সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার সময় শেনলং সুয়েজম্যাক্স নামে ওই ট্যাঙ্কারের ভারতীয় চালক ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে পুরোপুরি ‘ডার্ক মোডে’ চলে যান। তেল সহ নিরাপদেই ভারতীয় উপকূলে আসে এই ট্যাঙ্কার।

হরমুজে ভারতগামী জাহাজগুলিতে তেহরানের ছাড়পত্র নিয়ে জল্পনার ইস্যুতে এদিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের মুখোমুখী হন। তিনি বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে এখনও পর্যন্ত মোট তিনবার কথা হয়েছে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের। তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ আলোচনায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের ইস্যুতে কথা হয়েছে। তবে এর বাইরে আমার পক্ষে বাড়তি কিছু জানানোর সময় এখনও হয়নি।’ এছাড়া জয়সওয়াল জানান, ইরানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় ছিলেন। যাঁরা ফিরতে চেয়েছিলেন, তাঁদের আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া সীমান্ত হয়ে ইরান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে ভারত সরকার সহযোগিতা করছে।
ইরান হুমকি দিয়েছিলো , হরমুজ দিয়ে এক লিটার তেলও বাইরে যেতে দেব না। সমুদ্রের বুকে জাহাজে দাউদাউ করে আগুন জ্বলার একের পর এক ছবি আতঙ্ক ছড়িয়েছে নাবিকদের মধ্যে। তারই মধ্যে লিবিয়ার পতাকাবাহী শেনলং সুয়েজম্যাক্স নামে ট্যাঙ্কারটি তেল নিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে পাড়ি দেয় গত ১ মার্চ। হরমুজ প্রণালীতে আসার পর তেহরানের চোখে ধুলো দিতে ট্যাঙ্কারের ভারতীয় ক্যাপ্টেন সব ট্রান্সপন্ডার ও অটোম্যাটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম(এআইএস) বন্ধ করে দেন। প্রবল ঝুঁকি নিয়েই ট্যাঙ্কারকে সম্পূর্ণ ‘ডার্ক মোডে’ রেখে হরমুজ দিয়ে যাত্রা অব্যাহত রাখেন তিনি।

