নার্সিংহোমে সিজারের পর প্রসূতির দু’টি কিডনির ব্যাপক ক্ষতি, আদালতের নির্দেশে মামলা দায়ের করলো পুলিশ

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির দু’টি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো মালদহের সামসি এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, প্রসবের সময় চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে ওই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। পরে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। এদিকে এই ঘটনায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন প্রসূতির স্বামী রহিম আলি।

রতুয়া থানার হরিপুরের বাসিন্দা রহিমের অভিযোগ, গত বছরের ১৯ আগস্ট প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে স্ত্রী রেশমিরা খাতুনকে সামসির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। সেখানে সিজার করে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নজরদারির অভাবে রেশমিরার অবস্থা চরম সংকটজনক হয়ে ওঠে। প্রথমে তাঁকে মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ১৩ অক্টোবর ছাড়া হয় রেশমিরাকে।

এদিকে রহিমের পরিবারকে চিকিৎসক জানান, প্রসূতির দু’টি কিডনি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর রেশমিরার পরিবার কিডনি পাচারের চেষ্টার সম্ভাবনাও দেখছে। অভিযোগ, যে নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচার করা হয়, তার মালিক চিকিৎসক না হয়েও অস্ত্রোপচারে অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, অস্ত্রোপচার নাকি করেছিলেন অস্থি চিকিৎসক। প্রথমে পুলিশ, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ জানালেও কাজ না হওয়ায় চাঁচল মহকুমা আদালতের দ্বারস্থ হন রহিম। নার্সিংহোমের মালিক, একজন চিকিৎসক, দু’জন ম্যানেজার ও এক কর্মীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয় আদালত। অবশেষে আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *