অধরাই রইলো আচ্ছে দিন , জিনিসপত্রের লাগাম ছাড়া দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ৮৯ শতাংশ মানুষ, দুর্দশার চিত্র ফাঁস খোদ রিজার্ভ ব্যাংকের সমীক্ষাতেই
বেস্ট কলকাতা নিউজ : কোনো রাজনৈতিক দল নয়, খোদ রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। কোনো নেতা-নেত্রী নন, সাধারণ মানুষ। আর দেশের এই আম জনতারই রায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতির ‘আচ্ছে দিন’ আসেনি। অন্তত ভারতে নয়। দেশের আর্থিক অবস্থা কেমন? চাকরির বাজারের কী পরিস্থিতি? খরচের বহর বেড়েছে? এমনই নানা প্রশ্ন সামনে রেখে সমীক্ষা চালিয়েছিল আরবিআই। সরাসরি জিজ্ঞাস্য ছিল, এক বছর আগে পরিস্থিতি যা ছিল, সেই তুলনায় বর্তমান অবস্থা কি ভালো হয়েছে? সেই সমীক্ষার জবাব মিলেছে। এবং দেখা যাচ্ছে, দেশ এবং দেশবাসী ভালো আছে—এই দাবি এতটুকু বিশ্বাস করতে নারাজ ভারতের সিংহভাগ মানুষ।

শহর এবং গ্রাম—দুই ক্ষেত্রেই সমীক্ষাটি চালিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাংক। আর সর্বত্র কমবেশি ধরা পড়েছে মানুষের ক্ষোভ। সবচেয়ে বেশি অবশ্য নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে। একদিকে সরকার লাগাতার দাবি করছে, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু তার এতটুকু প্রভাব বাজারে দেখা যাচ্ছে না। প্রতি মাসের সংসার খরচ আগের মাসের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে। শহরাঞ্চলের ৮৯.১ শতাংশ মানুষই দাবি করেছেন, জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়েছে। আর অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের নিরিখে এই বৃদ্ধির পক্ষে সায় দিয়েছেন ৮৬.৯ শতাংশ আম আদমি। মোদি জমানায় ‘আচ্ছে দিন’ এসেছে—মানতে চাইছেন না প্রায় অর্ধেক দেশবাসী। মাত্র চার শতাংশ ‘আশাবাদী ভক্ত শ্রেণি’র মানুষ মনে করছেন, জিনিসপত্রের দাম কমেছে।
নগণ্য কয়েকজন শুধু বলতে পেরেছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্র কাটছাঁট করে সংসার খরচ তাঁরা কমিয়েছেন। বা কমাতে বাধ্য হয়েছেন। সমীক্ষায় প্রশ্ন ছিল, আয় বেড়েছে? ৫২.৮ শতাংশ মানুষ বলছেন, তাঁদের আয় একই আছে। আর প্রায় ২২ শতাংশের দাবি, তাঁদের উপার্জন আগের তুলনায় কমে গিয়েছে।
এ তো গেল শহরের কথা। গ্রামবাসীরাও কি একই মতামত দিচ্ছেন? রিজার্ভ ব্যাংকের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গ্রামের অবস্থা আরও সঙ্গীন। যেখানে সরকারি প্রকল্প বা অনুদানের সুবিধা নেই, সেইসব রাজ্যের মানুষ সরাসরি বলছেন, পরিস্থিতি আগের থেকে খারাপ হয়েছে। আর এই অঙ্কটা প্রায় ৩৫ শতাংশ।

