ট্রাফিক সিগন্যালে দেবদেবীর বেশ ধরে হাতসাফাই! কলকাতা পুলিশের জালে ধরা পড়লো গুজরাতের ‘ভেকধারী’ চক্র
বেস্ট কলকাতা নিউজ : কলকাতার ব্যস্ত মোড়। ট্র্যাফিক সিগন্যালে লাল আলো জ্বলছে। কেউ রাস্তা পার হবেন, কেউ বা গাড়ির কাচ নামিয়ে অপেক্ষা করছেন। চেনা এই ছবির আড়ালে শহরে ফাঁদ পেতেছিল গুজরাতের প্রতারক চক্র৷ অবশেষে এক্সে পোস্ট করে এ ব্যাপারে শহরবাসীকে সতর্ক করল কলকাতা পুলিশ৷ পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, আপনি ট্র্যাফিক সিগনালে বা অন্য কোথাও অপেক্ষা করছেন, হয়তো রাস্তা পেরোবেন। আপনার দিকে এগিয়ে এলেন মা কালী, শিবঠাকুর এবং আরও অন্যান্য দেবদেবী।…দেবদেবীর দল উধাও হয়ে যাওয়ার পর আপনি দেখলেন, আপনার মানিব্যাগ বা মোবাইলও উধাও। অভাবনীয় দক্ষতায় সেগুলো হাতিয়ে নিয়েছে চোরেরা!’

ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “প্রথম দর্শনে চমকে ওঠাই স্বাভাবিক। ততক্ষণে করুণ কণ্ঠে অনুরোধ, ‘কিছু দান করুন।’ ধর্মীয় আবেগে কেউ দশ, কেউ কুড়ি টাকা এগিয়ে দেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় অদৃশ্য কারসাজি। ‘আশীর্বাদ’ শেষ হতেই দেখা যায়, মানিব্যাগ বা মোবাইল উধাও!” সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতা শহরের একাধিক ট্রাফিক সিগন্যালে এই অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকেই৷ এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে বেশ কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে৷ তারই অন্যতম হেল জোড়াসাঁকো থানার একটি অভিযোগ৷ যার ভিত্তিতে শহরের বুকে ‘ভক্তির আড়ালে হাতসাফাই’ ঠেকাতে তৎপর হয় কলকাতা পুলিশ।
তদন্তে নেমে অবশেষে হেস্টিংস এলাকা থেকে ভেকধারী চার অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ৷ এ ব্যাপারে শহরবাসীকে সতর্ক করে সোশ্যাল মাধ্যমে ধৃতদের ছবি, পরিচয় দিয়ে পোস্টও করেছে পুলিশ৷ তাতে জানানো হয়েছে, ধৃতরা সকলেই গুজরাতের আনন্দ জেলার বাসিন্দা— অনিল রামজু সালাত, ধীরু কালোভাই সালাত, সমীরভাই সালাত এবং রাজু কুমার। তদন্তকারীদের আরো পর্যবেক্ষণে, ভক্তি আর ভেক, এই দুইয়ের মিশেলে ‘ব্যবসা’র ফাঁদ পেতেছিল প্রতারকরা। শুধু কলকাতাই নয়, দেশের অন্য শহরেও একই কায়দায় প্রতারণা চালাত এই চক্র।

