নিঃশ্বাসের গন্ধ বিশ্লেষণ করেই নির্ণয় হবে কিডনির রোগ , AI-এর যুগান্তকারী উদ্যোগ কলকাতা মেডিক্যালে
বেস্ট কলকাতা নিউজ : বাংলার সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত খুলে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই । এবার আর রক্ত পরীক্ষা বা জটিল মেডিক্যাল পদ্ধতির উপর নির্ভর করতে হবে না ৷ স্রেফ রোগীর নিঃশ্বাসের গন্ধ বিশ্লেষণ করেই জানা যাবে কিডনি কতটা সুস্থ, কিংবা আদৌ কোনও সমস্যার ইঙ্গিত আছে কি না । এমনই অভিনব প্রযুক্তি চালু হয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে, যা ইতিমধ্যেই চিকিৎসা মহলে সাড়া ফেলেছে । এই অত্যাধুনিক ডিভাইসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তিতে তৈরি । এর প্রধান কাজ রোগীর নিঃশ্বাস থেকে নির্গত ‘ভোলাটাইল অর্গানিক কমপাউন্ড’ বা ভিওসি শনাক্ত করা । সহজ ভাষায়, শরীরে জমে থাকা বিভিন্ন নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বাইরে বেরোয় – যেমন অ্যামোনিয়া, ডাইমেথাইলামাইন ও ট্রাইমেথাইলামাইন । এই যৌগগুলির মাত্রা বিশ্লেষণ করেই ডিভাইসটি কিডনির কার্যক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেয় ।

চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ঠিকভাবে কাজ না-করলে শরীরে ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ জমতে শুরু করে । এই ইউরিয়া মুখের ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে ভেঙে অ্যামোনিয়ায় পরিণত হয় । ফলে রোগীর নিঃশ্বাসে এক ধরনের তীব্র ও প্রস্রাবের মতো গন্ধ তৈরি হয় । একইভাবে ডাইমেথাইলামাইন ও ট্রাইমেথাইলামাইন নামের যৌগগুলিও কিডনি বিকলতার ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে তৈরি হয় এবং নিঃশ্বাসে তাদের উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে । নতুন এই প্রযুক্তি সেই গন্ধগুলিকেই বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত করে । কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সৌগত দাশগুপ্ত বলেন, “এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল – প্রাথমিক পর্যায়েই কিডনির সমস্যা ধরা সম্ভব । ফলে রোগ নির্ণয় দ্রুত হবে এবং চিকিৎসাও শুরু করা যাবে অনেক আগে থেকেই । এতে রোগীর জটিলতা কমবে এবং খরচও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে ।”

