লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার পথে কেন্দ্রীয় সরকার! ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৃত্যুঘণ্টা’ বলে সরব হল বিরোধীরা
বেস্ট কলকাতা নিউজ : লোকসভা ও বিধানসভাগুলোর আসন সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি এবং আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কেন্দ্রের নয়া বিলকে কেন্দ্র করে সরব হলেন বিরোধীরা। বিলের খসড়া অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই বিলের আড়ালে আদতে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমিয়ে উত্তর ভারতের আধিপত্য কায়েম করার চেষ্টা চলছে। আসন পুনর্বিন্যাসের এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এমকে স্ট্যালিনের মতো মুখ্যমন্ত্রীরা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কংগ্রেসের রাজ্যসভার চিফ হুইপ জয়রাম রমেশ বিলকে ‘বিপজ্জনক’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। সিপিআইএম সাংসদ জন ব্রিটনস বলেন, “এই বিল আসলে যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারতের জন্য মৃত্যুঘণ্টা। এটি দক্ষিণ ভারতকে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক উপনিবেশে পরিণত করার এক কুটিল কৌশল।” বিরোধীদের দাবি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো সফল হয়েছে।
এখন আসন পুনর্বিন্যাস হলে সেই সাফল্যের জন্য তাদের উল্টে সংসদীয় ক্ষমতার আসন হারাতে হবে। কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধি এই প্রস্তাবকে সংবিধানের ওপর ‘আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, এই সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে পশ্চিমবঙ্গকে তিন ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এদিকে কেন্দ্র দাবি করেছে, ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করতেই এই আসন বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে আসলে আসন পুনর্বিন্যাস চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আম আদমি পার্টি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা বর্তমান আসন সংখ্যায় মহিলা সংরক্ষণ সমর্থন করবে, কিন্তু আসন বাড়ানোর এই প্রক্রিয়া মানবে না। সমাজবাদী পার্টি আবার প্রশ্ন তুলেছে, ২০১১ সালের আদমসুমারির ভিত্তিতে কেন এই সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।

