সরতে রাজি ব্যবসায়ীরা, তবু ৩ বছরেও তৈরি হয়নি পার্ক সার্কাসের অস্থায়ী পুর-বাজার
বেস্ট কলকাতা নিউজ : বয়সের ভারে জীর্ণ অবস্থা পার্ক সার্কাস পুর-বাজার ভবনের ৷ ২০২২ সালে বাজারের একাংশের চাঙড় ভেঙে পড়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল ৷ তারপরেই কলকাতা পুরনিগমের তরফে ‘বিপজ্জনক’ বোর্ড ঝোলানো হয় বাজারের গেটে ৷ পাশাপাশি, বাজারটি ভেঙে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় কেএমসি-র বাজার বিভাগ ৷ পরিকল্পনা ছিল লেক মলের মতো আধুনিক হবে সেই বাজার ৷ আর কাজ চলাকালীন অস্থায়ী ভাবে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে পার্ক সার্কাস ময়দানে ৷ সেই পরিকল্পনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও অস্থায়ী কাঠামো এখনও তৈরি করে উঠতে পারেনি পুরনিগম ৷ এদিকে বাজার স্থানান্তর হচ্ছে, এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই কমেছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের ৷ এ নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ ৷

তাঁদের কথায়, “আমাদের স্থানান্তর করতে বলা হলেও, যেখানে অস্থায়ী দোকান দেওয়ার কথা, সেখানে কাঠামোই তৈরি করেনি কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ ৷ এদিকে ক্রেতারা ভাবছেন এই বাজার থেকে দোকানদাররা চলে গেছে ৷ তাই ক্রেতাদের আনাগোনা অনেক কমে গেছে এই বাজারে ৷” কলকাতা পুুরনিগম সূত্রে খবর, পার্ক সার্কাস পুর-বাজারে সব মিলিয়ে কমবেশি ৫০০ টি স্টল আছে ৷ বাজারের বাইরে বেশ কিছু স্টল আছে ৷ ২০২২ সালে পরিকল্পনা হয়েছিল বাজারটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হবে ৷ বদলে সেখানে আধুনিক মানের মল তৈরি হবে ৷ অনেকটা লেক মলের মতো ৷ শুধু বাজার নয়, সিনেমা-হল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর-সহ আর অনেক কিছু থাকবে এক ছাদের তলায় ৷ সঙ্গে পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ৷ তবে, কলেজ স্ট্রিটের বর্ণ পরিচয়ের পরিণতি না-হয়, সেই ভেবেই প্রথমে দোকানদাররা বিমুখ ছিলেন এই প্রস্তাবে ৷ অতীতে বাম আমলে একবার একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে আধুনিকীকরণ করার চিন্তাভাবনা করা হলেও, তা বিফলে গেছিল ৷ তবে, দফায়-দফায় আলোচনায় শেষমেষ রাজি হন ব্যবসায়ীরা ৷

