এক সংসদ এক সচিবালয়ের ভাবনা, কাজ হারানোর চরম শঙ্কায় ৪ হাজার কর্মী
বেস্ট কলকাতা নিউজ : ‘এক সংসদ, এক সচিবালয়।’ পাঁচ হাজার থেকে কর্মী কমিয়ে ৮০০। চমক আর নতুনের নেশা নরেন্দ্র মোদির! এবার গত ৭৪ বছরের ব্যবস্থা বদলে সংসদের সচিবালয়ও একটি করার পরিকল্পনা চলছে। ওয়ান পার্লামেন্ট ওয়ান সেক্রেটারিয়েট। বিশ্বস্ত সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই উদ্যোগে গোড়াতেই যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা হল কর্মী ছাঁটাই। যদিও কর্মী ছাঁটাই হলেও কাজে কমতি হবে না বলেই দাবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কর্মক্ষমতা বাড়ানো হবে। হবে না নতুন নিয়োগও। স্বয়ং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সম্প্রতি জানিয়েছেন, ‘গত ছ’ বছর লোকসভা সচিবালয়ে কোনও নতুন নিয়োগ হয়নি।’ নিয়োগ বন্ধ, অযথা বছরে দু’ কোটি টাকার ফুল সহ গত ছ’ বছরে মোদি সরকারের ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছেন বলেও গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু একটিই সচিবালয় তৈরির পরিকল্পনায় সংসদের অলিন্দে দুই সচিবালয়ের কর্মীরা চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন। গত ৭৪ বছর ধরে চলছে সংসদের দুই সভার দুই সচিবালয়। লোকসভা সচিবালয়, রাজ্যসভা সচিবালয়। দুই সচিবালয়ের জন্য রয়েছে আলাদা কর্মচারী। আলাদা প্রশাসন। কারণ দুই সভার কাজও ব্যাপক। তবে এবার এক সংসদ, এক সচিবালয়ের পরিকল্পনায় ১৯৫২ সাল থেকে চলে আসা ব্যবস্থার বিদায় দিতে চাইছে সরকার। পরিবর্তে একটিই সচিবালয় করে একদিকে খরচ কমাতে চাইছে কেন্দ্র। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি দিতে চাইছেন নতুন চমকও।
দুই সচিবালয়ের তথ্য মোতাবেক, লোকসভায় সচিব থেকে শুরু করে ডিরেক্টর, জয়েন্ট ডিরেক্টর, টাইপিস্ট, পার্লামেন্টারি রিপোর্টার, অনুবাদক, এমটিএসের মতো ১১২টি পদে লোক লাগবে ৩ হাজার ২৩৫। অথচ খালি পড়ে রয়েছে ১ হাজার ৭৪টি। নিয়োগ হয়নি। একইভাবে রাজ্যসভা সচিবালয়ে ১৬৪টি পদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮২৭ জনের। এর মধ্যে খালি ৪৯৮টি। সব মিলিয়ে দুই সচিবালয়ে থাকার কথা ৫ হাজার ৬২ কর্মীর। কিন্তু রয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ জন। খালি ১ হাজার ৫৭২। এরপর এক সংসদ এক সচিবালয় করে এই পাঁচ হাজার লোককে এক ধাক্কায় কমিয়ে ৮০০ জনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা চলছে।
তারই প্রস্তুতি হিসেবে কর্মীদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যাতে বিরক্তি হয়ে তারা নিজেরাই চাকরি ছেড়ে দেন। রাজ্যসভা সচিবালয়ে সামান্য কারণেই কর্মীদের ‘শোকজ’ করা হচ্ছে। অফিস আসতে ১০ মিনিট দেরি হলেও দর্শাতে হচ্ছে কারণ। মৌখিক জবাবে সন্তুষ্ট না হলে বলা হচ্ছে লিখিত ব্যাখ্যা দিন। কে কেমন কাজ করছেন, তার রিভিউ করে কর্মীদের মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও উঠছে অভিযোগ।

