বাংলার চর্মশিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করতে বড়সড় পদক্ষেপ রাজ্যের, বিশ্বব্যাঙ্কের অর্থ আর সরকারি উদ্যোগে ভোলবদল হতে চলেছে লেদার MSME-র

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : রাজ্যের চর্মশিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতি ক্ষুদ্র শিল্প (এমএসএমই) এবং ট্যানারিগুলির দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তাপুষ্ট ‘রেইজিং অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেটিং এমএসএমই প্রোডাক্টিভিটি’ বা র‍্যাম্প প্রকল্পের অধীনে এই নয়া উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হতে চলেছে। রাজ্যের এমএসএমই এবং বস্ত্র দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পে দক্ষতা, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধ মেনে চলার ক্ষেত্রে যে ঘাটতিগুলি ছিল, তা সরাসরি মোকাবিলা করতেই এই ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সম্প্রতি এই নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে এটি কোনও সাধারণ বা রুটিনমাফিক প্রশিক্ষণ শিবির নয়। তাঁর কথায়, “লেদার এমএসএমই-গুলিকে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক, পরিবেশবান্ধব এবং রফতানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে তুলতে এটি একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।” প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যের ‘স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ বা কৌশলগত বিনিয়োগ পরিকল্পনার অধীনে চর্মশিল্পকে ইতিমধ্যেই অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। এই পরিকল্পনাটি মূলত ছ’টি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে— শিল্পের আনুষ্ঠানিকীকরণ, অর্থের সহজলভ্যতা, বাজারের বিস্তার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সবুজায়ন বা পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তোলা। বর্তমান এই নয়া উদ্যোগটি সরাসরি এই লক্ষ্যগুলির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের রূপায়ণের জন্য সরকারের তরফে একটি টেন্ডার বা দরপত্র ডাকা হয়েছে। যে সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা প্রথমে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার প্রধান লেদার ক্লাস্টার বা চর্মশিল্পের কেন্দ্রগুলিতে একটি বিশদ সমীক্ষা চালাবে। কারিগরি জ্ঞান, আর্থিক সাক্ষরতা, নিয়মকানুন মেনে চলা এবং ডিজিটাল সক্ষমতার ক্ষেত্রে ঠিক কী কী খামতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করাই হবে এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য। এই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই চর্মশিল্পের জন্য একটি কাস্টমাইজড বা সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ রূপরেখা তৈরি করা হবে। দফতরের এক সূত্রের মতে, “সরকার চাইছে এই প্রশিক্ষণ যেন একেবারে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে হয়। রফতানি প্রক্রিয়া, ডিজিটাল মার্কেটিং, পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা, জিএসটি নিয়মকানুন বা ঋণের সুবিধা— ঠিক কোন জায়গায় সংস্থাগুলির সাহায্য প্রয়োজন, সেটা বোঝাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *