ব্রেন ডেথ হয়েছিল জানিয়েছিল হাসপাতাল! রাস্তার গর্তে অ্যাম্বুল্যান্স পড়ে ঝাঁকুনিতে ফিরল মহিলার প্রাণ
বেস্ট কলকাতা নিউজ : হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা ৷ তাঁরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘ব্রেন ডেথ’ হয়ে গিয়েছে ৷ তাই ‘নিথর’ স্ত্রীকে নিয়ে চোখের জল ফেলতে ফেলতে বাড়ি ফিরছিলেন উত্তর প্রদেশের পিলিভিটের কুলদীপ শুক্লা । বাড়িতে স্ত্রীর শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল ৷ কিন্তু বরেলি-হরিদ্বার 74 নম্বর জাতীয় সড়কে গাড়ি ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই অলৌকিক ঘটনা ঘটে গেল ! জাতীয় সড়কের একটি গর্তে অ্যাম্বুল্যান্সের চাকা পড়তেই ঝাঁকুনিতে ‘নিথর’ থাকা দেহে প্রাণ ফিরে এলো । জেগে উঠলেন ‘মৃত’ মহিলা !

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঘরের কাজ করার সময় হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান কুলদীপ শুক্লার স্ত্রী বছর পঞ্চাশের বিনিতা শুক্লা । এরপর তাঁকে বরেলির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় । দুই দিন ধরে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয় । কিন্তু চিকিৎসায় কোনও সাড়া না দেখে চিকিৎসকরা বিনিতা শুক্লার ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে বলে জানিয়ে দেন ৷ অর্থাৎ, তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন । ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কুলদীপ স্ত্রী বিনিতাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে পিলিভিটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন । কুলদীপ বললেন, “আমি পরিবারকে শেষকৃত্যের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছিলাম । বিনিতা শ্বাস নিচ্ছিলেন না । আমার স্ত্রীর এইভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা কোনও অলৌকিক ঘটনার থেকে কম কিছু ছিল না । যখনই ও আবার শ্বাস নিতে শুরু করল, আমি তৎক্ষণাৎ আমার পরিবারকে জানালাম, শেষকৃত্যের প্রস্তুতি বন্ধ করতে বললাম ।”
এরপরই কুলদীপ শুক্লা তাঁর স্ত্রীকে পিলিভিটের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য ৷ চিকিৎসার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিনিতা চিকিৎসায় সাড়া দিতে শুরু করেন । ভেন্টিলেটর ছাড়া ১৩ দিন চিকিৎসার পর, বিনিতা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার । তাঁর স্বামী কুলদীপ শুক্লা বলেন, “ও এখন জ্ঞান ফিরে পেয়েছে এবং আমাদের সঙ্গে কথা বলছে ।” বিনিতা শুক্লা বলেন, “আমার রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল । আমি বাড়িতে রাখা ওষুধ খেয়েছিলাম । এরপর কী হয়েছিল জানি না । আমার পরিবার আমাকে বলেছিল যে আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম । আমি আমার পরিবারের কাছ থেকে পরে জেনেছি কী হয়েছিল । এখন আমি ভালো বোধ করছি ।”

