শুনশান চেহারা , ভোটের পর কলকাতায় বিরাজ করছে অঘোষিত কার্ফু
বেস্ট কলকাতা নিউজ : শেষ কবে সম্পূর্ণ কার্ফু দেখেছে কলকাতা? ১৯৯২, বাবরি মসজিদ ধংসের পর। সে ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা। বিজেপি। তার ৩৪ বছর পর বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে ফের অঘোষিত কার্ফু দেখল বাংলা। সৌজন্যে নির্বাচন কমিশন। বকলমে সেই বিজেপি।

বুধবার শেষ দফার ভোটে কার্যত স্তব্ধ শহর, শহরতলি, গ্রাম। নির্বাচন কমিশনের সীমাহীন কড়াকড়ি পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দেয় ১৪২ বিধানসভা কেন্দ্রের স্বাভাবিক জনজীবন। চিকিৎসার প্রয়োজনেও বাইরে বেরোতে পারেনি কেউ। আত্মীয়ের মৃত্যুতে পর্যন্ত যোগ দিতে পারেননি কয়েকজন। যাঁদের কর্মস্থল খোলা ছিল, তাঁদের নাকের জলে চোখের জলে হতে হয়েছে। সবমিলিয়ে সর্বত্র ‘কার্ফু পরিস্থিতি’। নিরুপায় মানুষ নাজেহাল, নাস্তানাবুদ হয়ে নির্বাচন কমিশনের অবিমৃষ্যকারিতার মাশুল গুনলেন দিনভর। ভোটের এমন করুণ দিন বাংলা আগে কখনো দেখেনি।
এদিকে হাওড়া থেকে সল্টলেক, বাইপাস থেকে হাসনাবাদ, চৌরঙ্গী থেকে কামারহাটি, সোনারপুর থেকে বারাসত, কিংবা বেহালা থেকে বসিরহাট—সর্বত্র অঘোষিত কার্ফু। হাওড়া স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে শয়ে শয়ে মানুষ। কোনো গাড়ি নেই। বেহালায় ভোটকেন্দ্রে লম্বা লাইন। একটা খাবারের দোকান, চায়ের দোকান পর্যন্ত খোলা নেই। আইসক্রিমের একটি গাড়ি এল। অভুক্ত মানুষদের কাড়াকাড়িতে লহমায় গাড়ি ফাঁকা। উত্তর কলকাতার নিমতলা স্ট্রিটে ভূতনাথ মন্দির সংলগ্ন পুজোর জিনিস কেনার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ। অভিযোগ, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে সব বন্ধ রাখতে বলেছে।

