কেরলে আতশবাজিরর কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত ১৩ জন শ্রমিক , আতঙ্কের ছাপ অগ্নিকাণ্ডে জীবিত কর্মীর চোখে মুখে
বেস্ট কলকাতা নিউজ : ‘রোদের তাপ ছিল প্রখর। সেই তাপই যে বাজি তৈরির জন্য আদর্শ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বুঝতে পারিনি আনন্দের প্রস্তুতি প্রলয়ের রূপ নেবে। যখন বুঝতে পারলাম দেরি হয়ে গিয়েছে!’ ত্রিশূরের ঐতিহ্যবাহী পুরম উৎসবরে জন্য বাজি তৈরি ও মজুত করা হয়েছিল কেরলের থালাপ্পিলির মুন্ডাথিক্কোডুরের আতশবাজির কারখানায়। মঙ্গলবার দুপুরে সেই কারখানার গুদামে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১৩ জনের। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে চব্বিশ ঘণ্টা। এখনও সেই দুঃসহ স্মৃতি রোমন্থন করে চলেছেন কারখানার এক কর্মী। বরাত জোরে বেঁচে গেলেও তাঁর আতঙ্ক কাটছে না বুধবারেও। কাঁপা কাঁপা গলায় বারবার বলছেন, ‘নিজেকে বাঁচানোর জন্য মাত্র তিন সেকেন্ড সময় পেয়েছিলাম!’

কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তাও ধরা পড়েছে ওই কর্মীর কথায়। তিনি বলেন, ‘আমরা বাজির সলতে শুকাতে দিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি সলতেতে আগুন ধরে গিয়েছে। মনে হয়, তীব্র গরমেই অতিদাহ্য সলতেতে আগুন লেগে যায়।’ এরপর কয়েক সেকেন্ডেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ওই ব্যক্তি জানাচ্ছেন, বিস্ফোরণের অভিঘাতে তিনি ছিটকে মাটিতে পড়ে যান। এরপর উঠেই প্রাণপণে দৌড়াতে থাকেন। মাত্র ২-৩ সেকেন্ডের মধ্যে একের পর এক বিস্ফোরণ হতে থাকে। তিনি বলেন, ‘কারখানার পাঁচিল টপকে ধানখেত ধরে দৌড়াতে থাকি। ফিরে দেখি আগুনের গোলা আকাশে উঠে যাচ্ছে।’
দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং তদন্ত নিয়ে আলোচনার জন্য এদিন মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক ডেকেছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। আলোচনা শেষে বাজি কারখানায় দুর্ঘটনা নিয়ে তিনি বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে জানানো হয়, কেরল হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সি এন রামচন্দ্রণ নায়ার বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবেন। মৃতদের পরিবারবর্গকে ১৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

